রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

ব্লগের হালচাল কখন কিভাবে চলে তা কি করে বুঝবেন, অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি টিউটোরিয়াল পোষ্ট(নতুন ব্লগারদের জন্য অবশ্য পাঠ্য)

ব্লগে এসে অনেকের এই ভাব যেন ঢাকা শহর আইসসা আমার আশা পুরাইসে:-*:-* ,অথবা আমি উহাকে পাইলাম ইহাকে পাইলাম ।B-)B-)কারণ টা কি ?? 8-| 8-|


**আপনি ব্লগে আসেন হঠাৎ দেখলেন সবাই কওয়া শুরু করসে আগুন পোষ্ট আগুন পোষ্ট:|:| ,আপনি ভাবলেন হায় হায় পোষ্টে আবার আগুন লাগে কিভাবে !!! গিয়ে দেখেন যে না আসলেই একটা আগুন মার্কা পোষ্টB-)B-) এখন কার যারা ব্লগার বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি এর পরে :((:(((মাইনাচ তুমি কুতায়)যারা এসেছেন তারা অনেকেই এখন আর সেই গুল্লি ডট কম এর সেই আগুন পোষ্ট বা পোষ্টে গুলাব এই টাইপ ইমো মিস করেন /:)/:)

**একসময় তো কিছু পোষ্ট আছে যেগুলো তে মাইনাস এর বন্যা বয়ে যেত ,পোষ্ট দাতা নাকের পানি চোখের পানি এককরে নিজের কান্নায় পানির ডুব সাতার কেটে পাড়ি দিয়ে ওই পোষ্ট ড্রাফট করতো কিংবা হয়তো অনেকেই জীবনের তরে সামু ছেড়ে চলে যেতেন ,এরকম একটা পোষ্ট হল জলকনা আপুর পোষ্টইতিহাসের এক অমর সাক্ষী বেচারি ৫৯৬ না ৫৯৪ টা মাইনাস দেখেছিলাম এই পোষ্ট এ শেষ পর্যন্ত মাইনাস প্রথা চলে যাবার পর ও অনেককেই তার পোষ্ট এ উৎসাহী হয়ে মাইনাস দিতে দেখা গিয়েছে ,এই হল সামু:):):D ।আবার আপনি হয়তো একটা কালজয়ী পোষ্ট যেমন ব্লগার কালপুরুষ দার পোষ্ট কিংবা একটা সাইফাই পোষ্ট পড়ে এসে যেই অন্য কোথাও আসলেন ওমনি দেখলেন পুলিশ এর সাইরেন কিংবা পেউ পেউB-)B-) আওয়াজ এখন হয়তো ভাববেন হায় হায় এ কি হল পুলিশ এর আবার কি দরকার ।ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখবেন হয়তো কোনো বিখ্যাত ব্লগার মুখ ফসকে বা কীবোর্ড ফসকে (ইহা নিক জনিত জটিলতা বা লগ ইন )জটিলতাই হোক সেখানে বিপদে পড়েছেন তাই তার পালা কুকুর গুলো ঘেউ ঘেউ করে সেদিকে ছুটে যাচ্ছে তাকে বাচাতে :|:|।আর আমরা মানুষ মাত্রই জানি যে “কুকুর হইতে সাবধান”তাই সেই পোষ্ট এর ২০০ হাত দূরে থাকুন মজা নিতে চাইলে নিতেও পারেন এইটা অবশ্য না করে লাভ নেই বাংগালি না হে হে :P:P


***আবার হঠাৎ দেখবেন একদিক থেকে ছাগল বা পাঠার গা নিসৃত বাজে গন্ধ ।আপনি যদি ভদ্র ঘরের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে ওদিকেও যাবেন না কারন একদল মানুষ থাকে যারা ব্লগে সারাদিন থাকবেই রাজাকার দের সাফাই গাইতে তাই সেদিক থেকে আমার পরামর্শ ২০০ হাত দূরে থাকা। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপানার অবশ্যি দায়িত্ব থাকবে কিভাবে ছাগুকে নগদ গদাম দিতে হয় তাই পরে মাঠ ঠাণ্ডা হলে গেলেও চলবে।:-/:-/

****আবার আরেকদিক থেকে আসতে পারে কুই কুই কান্না :((:((:((তাহলে বুঝতে হবে এটা কারো ক্ষমা প্রার্থনা মূলক পোষ্ট কারো সাথে ঘারতেরামি করতে গিয়ে নিজের খাদে নিজেই পড়েছে তাই এখন এই নামউল্লেখিত পোষ্ট দিয়েছে। আপনি পারলে একগাদা টিস্যু দিয়ে আসতে পারেন :P:P:P

$$
এই গেল ব্লগ এর হালচাল বোঝা ,তবে একেকজন একেকভাবে বোঝেন কেউ ফান্দে বগা পড়ে কান্দে আবার কেউ ফান্দে পড়ার জন্যই আসেন কেউ আবার পোষ্ট দিয়ে সরাসরি তমুখ কে পাত্রি হিসেবে কামনা করে পোষ্ট দিয়ে বসেনX(X(X((X((।তাই যেহেতু মাইনাস এর যুগ শেষ তাই এইটাইপ এর পোষ্ট দেবার পূর্বে পিঠে ছালা বেধে নেয়াই যুক্তি যুক্ত নাহলে এমন গদাম থুক্ু গদাম তো বুঝেন না পিটা /মাইর /গদাম খাবেন যে আর ওমুখো হবার কথা চিন্তাও করবেন না ।:-*:-*

***আবার ঘন্টায় ১৭ টা বা এরকম কপি পেস্টের চিন্তা করলে এখন ই বসে বসে মাছি মারেন |-) |-) :-< :-<

তাহলে এখন ব্লগার এর প্রশ্ন কি করে হব একজন হিট ব্লগার 

সেইজন্যই তো হল এই পুরো টিউটরিয়ালB-)B-)

তরিকা নং এক উরফে চিপা গলি তরিকা>> সেইটা হল আপনাকে বেশি করে ১৮+ জোকস দিতে হবে ।
-এইটা করা কোন ব্যাপার না এখন ফেসবুকে বাংলা পেইজ এর কোন অভাব নেই বলা হয় এই দেশে যত না ফেসবুক একাউন্ট তার চেয়ে বেশি ফেইসবুক পেইজ সেগুলো থেকে গরম গরম ভাপ দেয়া জোকস এনে পোষ্ট করুন ,হয়ে যাবেন হিট …….B-)B-)
সেই সাথে এই টিপস এর জন্য আমাকে বারবিকিউ দিতে ভুলবেন না।
তরিকা নং ২>> কেন আমি ছাগু না আম্মো ছাগু হইবার বাই বা কেনো আমি র’ এর এজেন্ট না এই টাইপ চিক্কুর কান্দন মূলক পোষ্ট দেয়া যাইতে পারে এই পোষ্টেই ছাগু ফাইটার রা আপনাকে ছুপা ছাগু বা ছাগবান্দব হিসেবে মার্ক করবে তারপর ভবিষ্যত এ কোন পোষ্ট দিলেই আপনি হিট :D

আর গুগলি তরিকা কইলে অনেক ছেলিব্রেটি ব্লগার ই আর এই পোষ্ট এ আইবো না B-)B-) তাই এইটা নিজ গুনে বুইঝা লন :-*:-*;);)

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১১

এলেমেলো ভাবনা ,ও মাঝরাত্তিরে নিজের অতীত হিসাব নিকাশ-৩


মাঝে মাঝে মাঝ রাত্তিরে মনে হয় এত দিন পর্যন্ত কি করলাম বা কি পেলাম না কি হারালাম তার হিসাব নিকাশ করতে বসি ।কিন্তু এতে নিজের ই কিছুটা ভয় থাকে যে এই হিসাব নিকাশ কি এই একরাতে শেষ করতে পারবো নাকি এর আগেই ভোর হয়ে যাবে ।অতবর আরক্ত চোখে আমার শুভ্র বিছানায় গা টা এলিয়ে দিব। হুম এরকম ই হয় ।কারণ জীবনের হিসাব নিকাশ এর অংশ বের করলে যেটার হার সবচেয়ে বেশি ভাবে প্রকাশ হয়ে আসে সেটা হল নির্মমতা ।
নির্মমতা ,এটা জীবনের একটা অবিছেদ্য একটা অংশ ।তবে ননীর পুতুল যারা কিংবা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কি তা জানি না ,তবে জীবনে চাওয়া পাওয়ার যা ছিল তা কোনদিন অপূর্ণ থাকে নি । আর আমার সেমন কোন আকাশ সম চাওয়াও ছিল না। মফস্বলে বড় হওয়াতে চারপাশে যা দেখতাম তা মোটামোটি সবই সাধ্যের মাঝে ছিল ,তবে একটা চাওয়া ছিল যেটা আজও পূর্ণ হয়নি সেটা হল-আমার প্রাইমারী বৃত্তি পেলে আম্মুর দেয়া প্রতিজ্ঞা পুরণ না করা ।
ক্লাস ফাইভ এর বৃত্তি পেলে আম্মু বলেছিল সাইকেল কিনে দিবেন ।সেটা আজও পাইনি ।এটার জন্য আমার ছোটো মনের অভিমান অনেক দিন ধরেই ছিল যেন গাল ফুলানো স্বভাব এর মত ।অবশ্য এই এখন এটা লেখছি যে এখন ও আম্মু আমার পাশেই আছেন তবে কেনো দেননি সেটার যুক্তি যুক্ত কারণ আমিও কোনদিন জানতে চাই নি । তবে মোটামোটি চালাতে পারি । এ নিয়ে আমার অভিজ্ঞতাও খুব ভালো নয়।
একবার এক বড় ভাই এর সাইকেল অনেক প্যান প্যান করে ধার নিলাম ,তখন মনে হয় ক্লাস ফোর বা ফাইভে পড়ি । বিকেলে খেলতে বেড়িয়েছি ।সেই ভাইয়া আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন মনে হয় ।যদ্দুর মনে পড়ে। একটু মোটাসোটাও ছিলেন ,তো আমি অনেক বায়না করে উনার থেকে সাইকেল টা নিয়ে মাঠে চড়াতে নিয়ে গেলাম । একটু আমার হাইট থেকে বড় ছিল ,যেখানে চালাচ্ছিলাম সেখান টা মাঠ বলবো না মোটামোটি ছোট খাটো ঝোপ ঝাড় নিয়ে কিছু জায়গা ,আমাদের কলোনীর ছেলেরা খেলতো আরো বড় মাঠে।
আমার হঠাৎ করে সাহস বেড়ে গেল ভাবলাম একটু রাস্তায় চালিয়ে দেখিই না কি হয়। রাস্তায় নিয়ে উঠলাম ভালোই চালাতে জানতাম খালি জানতাম না ব্রেক এর ব্যবহার টা ভালো করে কোথায় কোনটা ব্যবহার করতে হয় ।ফলাফল সাইকেল সহ আমি পুরোই চিৎপটাৎ । আর পড়বি তো পড় একেবারে রাস্তার ইট সুড়কি দিয়ে ত্তৈরি মজবুত প্লাস্টার এর উপর পুরো ঘষা খেয়ে ।
মনে আছে হাটু পুরো ছুলে গিয়েছিল ।ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম ।
এরপর সেই ভাইয়া থেকে আর সাইকেল চাইতে সাহস পাইনি (আপসুসের ইমো)
এখন ও সাইকেল বা হোন্ডা র কিনার ভুত মাথায় চাপলে আম্মু সেই এক্সিডেন্ট এর কথা মনে করিয়ে দেন
ও হ্যা একটু আগে আম্মু কে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম যে কেনো আমাকে সাইকেল কিনে দাও নি ।তখন আম্মুর কথা শুনে মনে হল আসলে নাকিনে দিয়েই ভালো করেছে ।কারন এরপর কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হয়ে যাওয়াতে আর সাইকেল চালানোর মত অবস্থা ছিল না। আর সাইকেল যাতে কিনার কথা না তুলতে পারি এই জন্য আম্মু নাকি স্কুলের কাছে বাসা নিয়েছিলেন । এত্তো চালাকি আজকে জানলাম হায়রে ...............
আবার ও লাইন চ্যুত লিখতে বসেছিলাম নির্মমতা নিয়ে নিয়ে গেল নস্টালজিয়ায় ,যাই হোক সিরিজ যেহেতু চলছে সেহেতু আর কোন একদিন হবে, মাথায় পড়ে রইলো ।
ভালো থাকবেন সবাই ।

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১১

এলোমেলো ভাবনা, সেই সাথে পড়ন্ত বিকেলে নিজের অতীত জীবন রোমন্থন ও আমার ছোট্ট বেলায় পুজা দেখা-২


এটা লিখার কথা আগেই ছিল কিন্তু লেখা হয়নি হয়তো এইদিনের অপেক্ষায় ছিলাম । সেই ছোটো বেলায় থেকেয় স্কুল এ পড়ার সময় নিজের ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার একটা আলাদা ফ্যাসিনেশন ছিল ,যেটা এখন ও হয়তো কাজ করে (হয়তো কারণ ইদানিং সেরকম সময় আর সুযোগ আসলে হয়ে উঠে নি)তবে মনে আছে এখন ও নতুন ক্লাসে উঠার আগেই আব্বু বাসায় বই এনে রাখতো তাই ইসলাম ধর্মের সব জীবন চরিত আগেই পড়া হয়ে যেত ,এমন ও হয়েছে ক্লাস ২ এর পড়া ফেলে আমি ক্লাস থ্রী এর বই নুহ (আঃ) এর জীবনী লুকিয়ে লুকিয়ে বই এর নিচে পড়ছি ।যাই হোক মনে পড়ে ক্লাস ফোর এ থাকতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বা এরকম কোন কিছুর একটা কর্মসূচী ছিল যে বাচ্চাদের বই পড়তে দেয়া হবে এরপর তারা পড়ে ফেরত দিবে জাস্ট ফীড ব্যাক দেবার মত ,আমি আমার ফ্রেন্ড দের সাথে চুক্তি করতাম যে আমি কবিতার বই পেলে তাদের সাথে চেঞ্জ করে নিবো । আমাদের ক্লাসে সবার কাছে মজার মজার বই ই পড়তো হঠাৎ খবর পেলাম ক্লাস থ্রী এর ছোটো ভাই অভিজিৎ একটা বই পেল সেটা হল ছোটো দের মহাভারত।কমিক্স এ আকা অনেক সুন্দর ছিল বই টা আমি বাসায় এনে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তে গিইয়ে ধরা খাই এরপর আবার ফেরত দিয়ে আসতে হয় সেই বই আর পড়া হয়নি পুরোটা তবে এখন ব্লগার দীপান্বিতা এর পোষ্ট প্রায়ই পড়ি ।

এই যে এক প্রসঙ্গ শুরু করলে আবার লাইনচ্যুত হয়ে যাই ,আমার স্বভাবজাত এটা। স্কুলে যাবার পথে খাসিয়া পট্টি পড়তো । প্রায় ই দেখা যেত যে কুকুর এর ভয়ে বা দৌড়ানি খেয়ে স্কুল এ পৌছাতাম ।কুকুরের অনেক ভয় ছিল,একজন স্যার এর বাসা ছিল এই খাসিয়া পট্টিতে তার কথা শুরু করলে এখানে আর শেষ করা যাবে না আসলেই একজন মানুষের জীবনে শিক্ষক এর অবদান অনেক তা স্বীকার করে উপায় নাই । অনেক আদর করতেন আমাকে।
সবচেয়ে মজার হত পুজার সময়কার মেলা গুলো । আর দুর্গা পুজার সময় আসলেই তো আর কথাই নেই যেদিন থেকে মাটি কাই করা শুরু করতো সেদিন থেকে আমার ডিউটি ছিল যে কিভাবে মূর্তি বানায় তা দেখা । নিয়ম করে দুই বেলা, সকালে স্কুল এ যাবার পথে একবার আর আসার পথে একবার কিভাবে মূর্তি বানায় তা দেখা ,এই চোখের সামনেই যেন একদলা কাই থেকে কি সুন্দর মূর্তি হয়ে যেত দেখতে দেখতে টের ই পেতাম না।
মন্দির এ ভিতরে যাওয়া নিষেধ ছিল তাই যেতে পারতাম না আসলেই হয়তো কেউ ই যেতে পারতো হয় তো তাদের পুরোহিত রা ছাড়া ।সবচেয়ে সুন্দর লাগতো যেদিন রঙ করা হত এভাবে চোখের সামনেই মূর্তি তৈরি হত ার আমরা দেখতাম ।সকালে দেখতে গেলে প্রায় ই প্রসাদ খেতে দিত।আমার অনেক প্রিয় ছিল এগুলো এখন কেউ দেয় না এসব । এগুলো দিতে দেরি নেই আর আমার খেতে দেরি নেই সাথে সাথে খেয়ে ফেলতাম।

দশমীর রাতে আব্বু সহ থানার সব আঙ্কেল দের ই দাওয়াত থাকতো আমরা যেতাম আবার আব্বুর সাথে সেখান কি কি যেন খেতে দিত খেয়াল নাই তবে অনেক মজার হত সেদিন এক বন্ধুর ভাই এর ছেলের মুখেভাত এ খাবার এ সময় সেই পুরোনো স্বাদ পেলাম মনে হয় আবার ।

মেলাটা হত সবচেয়ে মজার কত কিছু যে কিনেছি বৈশাখি মেলার কথাও মনে নেই তবে এই পুজোড় মেলার কথা অনেক মনে পড়ে একবার এক বান্ডিল লুডুর বোর্ড কিনে এনেছিলাম আব্বু আম্মু পুরো অবাক এক বান্ডিল দিয়ে কি হবে আমি বললাম কি হবে আর খেলবো একটা নষ্ট হলে আরেকটা বের করবো সেই প্রথম সেট ই এখন ও আছে বাকি গুলো মনে হয় আম্মু সিলেট থেকে কুমিল্লা শিফট করার সময় বাকিদের দিয়ে এসেছিলেন ।দাবাটা কিনা হল না আফসুস এই জন্য মনে হয় এখন ও দাবা খেলাটা পারি না ।দুঃখের আর কোন সীমা নেই ।

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

এলোমেলো ভাবনা ,সেই সাথে নিস্তব্ধ দুপুরে নিজের সাথে কথোপকথন -১




মাঝে মাঝে মনে হয় । এই পৃথিবীর চলতে যে সময় এর উপর নির্ভর করে , তা থেমে গেছে তখন ভয় হয় ,কারণ সময় তো থামতে পারে না । অন্তত বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক তারা নিজ নিজ ভাষাতেই তাই বলেন ,এই সময় টা বড়ই ভয়ঙ্কর। মনে হয় যেন কেন যে কাটে না ।আমার মাঝে মাঝে এরকম ই মনে হয় । এটা এখন না সেই ছোটো থেকেই ।
যেমন ছোটো দুপুরে ভাত খাবার পর মনে হত কখন বিকাল হবে আর আমি বাইরে খেলতে যাবো , আম্মু হয়তো পড়া দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে ,আর আমি কিভাবে আজকে ছক্কা মারবো তমুখ এর বলে তার প্রাক্টিস করছি বাসায় আমার রুমে বসে ।ভাব এমন যেন আজকে আমি একাই সব ছক্কা মারবো। অবশ্য খেলতাম বড়দের সাথে তাই সর্বশক্তি দিয়ে মারলেও দেখা যেত গালিতে আমাদের মুশফিকদের মত ক্যাচ তুলে দিয়েছি ।হা হা হা। তবে একদিনের কথা খুব মনে পড়ে , সেদিন ছিল আমার সেই ছোটো বেলার মফস্বলে শেষ বিকেল সেদিন বড় ভাই রা আমকে ৩ বার লাইফ দিয়ে ছিলেন , শেষের দিকে একটা দুর্দান্ত সিঙ্গেল নিয়ে জয়েও অবদান রেখেছিলাম ।সেই ছোটো দিনের পিচ্চি ইভান ……… ক্লাস ফাইভে পড়লেও তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে আট । আর মনে হচ্ছে এই তো কয়দিন আগেই সেই দিন টা গেলো ।

কয়েকদিন আগে সেই এলাকার পাশ দিয়ে জাফলং যাচ্ছিলাম ,ভাবছিলাম জীবন টা কত বিচিত্র এই সিলেটের মাটিতেই আমাকে পুরোপুরি বড় হতে হল । সে আমাকে আর কোথাও যেতে দিল না। সেই জৈন্তাপুর এর দিন গুলি অনেক মিস করি ।

হা হা ,কথার খেই হারিয়ে ফেলছি লিখতে বসেছিলাম অন্যএকটা ব্যাপার নিয়ে হয়ে গেলো স্মৃতিচারণ ,আসলে হা……….. মনে পড়েছে ।সামনে অনেক বড় একটা কাজের চাপ আসছে সেই কাজের ফাকে ফোকরে এদিক সেদিক উকি মারতেই আজকের এই নিস্তব্ধ হরতাল এর দুপুর হাজির. মনে হচ্ছে সেই ছোটো বেলার দিন গুলোর কথা সেখানে পড়ার টেবিলে পাশেই দেখা যেত বিশাল এক আমগাছ বছর বছর গ্যাপ দিয়ে তাতে মুকুল আসতো ,যখন মুকুল আসতো তখন যে কি মজা লাগত সারাদিন একা একা মুকুল গুলোর সাথেই গল্প করতাম । ওদের ছোটো থেকে বড় হতে দেখতাম আর বড় হয়ে যখন আম হল তখন বাইরে থেকে পিচ্চি গুলো এসে ঠিল ছুড়তো ওগুলো পাড়ার জন্য তখন কষ্ট লাগতো ,যে কেন ওদের গাছে থাকতে দেয় না ওই ছেলে গুলোর সমস্যা কি !!! যদিও গাছ টা আমাদের কোয়ার্টার এর পিছনের দিকে ছিল (খুব সম্ভব পানি উন্নয়ন এর অফিস এরিয়ায়)একদিন তো ছেলে গুলোর সাথে আমার বাসার দোতলা থেকে ঝগড়াই শুরু করে ফেলেছিলাম ,তারপর দেখি তারা আমার দিকে তাক করে জানালা বরাবর ঠিল ছুড়ছে ,আমি তো জানি শুধু একটা গালি আম্মু তোমাকে পচা ছেলে বলবে ,যাই হোক পরে আম্মু এসে বকা দিয়ে জানালা টাই মনে হয় বন্ধ করে দিয়েছিল । আর আমি আমার সেই দুর্ভাগ্য বরন করে নেয়া আম গুলোর জন্য কান্না করছিলাম ,খুব কষ্ট হয়েছিল সেদিন ,এখন ও মাঝে মাঝে নিজেকে এভাবেই প্রবোধ দেই যে যখন খুব প্রিয়জন এভাবে ছেড়ে চলে যেতে যায় তাকে চলে দিতে হয় হয়তো এটাই লেখা ছিল দুই জনের নিয়তিতে ………….


শিশুকাল সুলভ বাচ্চামির টা এখন ও আছে , যেমন এখন ও দোকানে গেলে খেলনা গাড়ি দেখলে অনেক অনেক খুটিয়ে দেখি কল্পনা করি যেন আমি খেলছি ,গতকাল ভার্সিটির জন্য বাসের অপেক্ষা করতে গিয়ে একটা খেলনা দোকানের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম   একটা খেলনা ডবল ডেকার এর দেখে খুব পছন্দ হয়ে গেলো  দাম ও দেখলাম অনেক কম কিনতে ইচ্ছে হল ,যেন আমি বাসায় নিয়ে খেলবো ….এরকম উদ্ভট চিন্তা ভাবনা থেকে হঠাৎ আমার কানের কাছে একটা আওয়াজ এলো ……………..ভো ভো ভো …………যেন কে যেন বাস টা নিয়ে খেলছে । হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেলাম কারণ আওয়াজ টা করছি আমি কেউ শুনতে পারলে নেহাত আমাকে পাগল ঠাউরে বসবে ……………পুরোই নিজের মাঝে একাধিক সত্তার উপস্থিতি ……

যাই হোক এখন এখানে পাগলামি বন্ধ করি ……….এমনিতেই অনেক পাগলামির কথা লিখে ফেলছি আর বাকি কিছু লিখে পাবনায় আপাতোত স্যাটেল হবার ইচ্ছে নেই 

তবে মাঝে মাঝে অনেক অনুভব করি সেই ছোটো বেলার দিন গুলো কে স্কুল ও যাবার থেকে স্কুল ও যাবার পথে আর আসার পথে যে মজা টা হত সেটার জন্য ই স্কুল এ যেতাম …………    ইচ্ছে করে আবার ছোটো হয়ে যেতে তাহলে মানুষের মাঝে পঙ্কিলতা আর কলুষতা আর দেখতে হত না ,আর ছোটোদের মন তো এমনিতেই পবিত্র ,আমি সেই পবিত্র মনে অধিকারী হতে চাই ………..

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ফেসবুক বিষয়ক কিছু কড়চা এবং এর সেকাল, একাল ও পরকাল, সাথে একটি ব্লগীয় ফেসবুকীয় শর্টফিল্ম


কয়দিন আগে সিরিয়াস টাইপ লেখার ঝোক হচ্ছিল তখন লিখবো লিখবো বলে আর লেখতে বসতে পারি নি ,কিন্তু লেখার সময় দেখি গড় গড় করে লেখা হয়ে গেলো ,লেখার আগে শুধুই প্রথম লাইন টাই মাথায় এসে ঘুরছিল ,ওয়ার্ড ডকুমেন্ট এ এসে দেখি পুরোটাই গড় গড় করে বসে গেল। এই পোষ্ট টাই সেরকম কিছু একটা হতে পারে ।

তবে যখন লিখবো তখন কোথা থেকে শুরু করবো আর কোথায় গিয়ে শেষ করবো তার তাল আর দিক মেলাতে পারছি না।
তা টপিক হল ফেসবুক নিয়ে , হ্যা আসলে ইদানিং কিছু নতুন ফিচার বলবো না কুফা বলবো যাই হোক এই জিনিস টা উপরে আসলেই বিরক্ত এসে পড়েছে।তাই একটু এটার সুনাম গাইতে আসলাম আর কি ;);)
তাহলে আমরা আসুন জেনে নেই আমাদের ভবিষ্যৎ নেটপাগল ফেসবুক এর জমানা কেমন হবে
***বিকালের আড্ডায় –
আমাদের পিচ্চি বেলা – আসর এর নামাজ পড়ার নাম নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নামাজ কোনমতে শেষ করে মাঠে খেলতে যেতাম
এখনকার সময় – অমুখ এর ওয়াল বা ইনবক্সে তমুখের ওয়াল পোষ্ট দোস্ত বিকালে গ্রুপ চ্যাট এ থাকিস ।
ভবিষ্যত এ – বিকালে আমার ১৭০ নং আইডির তমুখ মেয়ের/ছেলের(সাইয়া নিক ও হইতে পারে) সাথে ডেটিং ইন চ্যাটবক্স
তা দেখি আসুন কথোপকথন
মেয়ে – তুমি কই থাকো সারাদিন তোমাকে অনলাইনে দেখি না।
ছেলে – ইয়ে মান ঝান সারাদিন অন্নেক বিজি ছিলাম ক্লাস এসাইমেন্ট ব্লা ব্লা ব্লা (মনে মনে আমার কি টাইম এর এতো কম দাম নাকি তোমার লগে সারাদিন চ্যাট করুম )আজকে যা করলাম না জরিনার সাথে চ্যাট এ ………….(বুদ্ধিমান রা বাকিটা ইশারায় বুঝে নিবেন)
***লুলস সমাজ –
আগেকার যুগে – স্কুল বা কলেজের টাইম এ সারাদিন পাংকু মেরে দাঁড়ায় থাকতো ,কত গরম ……..
এখন – পাড়ার কম্পিউটার এর দোকান থেকে ফটোশপে কাজ করা চরম একটা ফটো প্র – পিক লাগিয়ে সারাদিন শুধু কাজ হইলো বসে বসে মেয়েদের এ্যড করা আর মেয়ে ছবি দেখে কমেন্ট করা …………..your photo iz co cweet you like it……can I take my mobile number plz……..লুল ফেলতে ফেলতে ইংলিশ ই ভুলে গিয়েছে নাকি তাদের দৌড় এদ্দুর কে জানে ?? L
ভবিষ্যত – লুলসদের স্টাইল নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো তবে ভবিষ্যতে নিজেদের তৈরি কৃত ছাইয়া নিক দিয়ে বৃহত্তম ফেসবুকীয় ছাইয়া মহাযুদ্ধ করার সম্ভবনা আছে
তবে এই ব্যাপার টা নিয়ে একটা নাটক লিখার ইচ্ছা আছে অনেক দিন থেকে –
আগেকার দিনের যখন মেয়ে তার পছন্দের ছেলেকে বাসায় নিয়ে এসেছে বাসায় মার সাথে পরিচয় করাতে –
মেয়ে – মা এর নাম সুমন(কাল্পনিক নাম)
ছেলে- খালাম্মা স্লামালিকুম
মা- (ছেলের আদব কায়দা দেখে তো গদগদ) তা বাবা তুমি কি কর চাকরি বাকরি কিছু ??
ছেলে – না খালাম্মা আমি বেকার
মা – তাহলে আমার মেয়েকে খাওয়াবে কি ?? (মনে বড়ই আফসোস কারন মার ছেলে পছন্দ হয়েছে কিন্তু মেয়ের বাবা )
ছেলে – খালাম্মা আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু আপনি জেনে রাখবেন গরিবের ও ভালোবাসা বলে কিছু আছে (সাথে বাংলা সিনেমায় কড়া ভাবে চলনসই কিছু ডায়ালগ)
এখন কার সময় –
মেয়ের মা – তোমার বাবা কি করেন?
ছেলে – বাবা ব্যবসা করেন (চাপার উপরে দুনিয়ে চলে এখানে মারলেও গুনাহ নাই )
মা – তা তোমার কি অবস্থা নিশ্চয় তুমিও বাবার ব্যবসায় হাল ধরেছ ,তোমার ব্যাংক একাউন্ট আছে কয়টা ?
ছেলে- আন্টি এতো ফেসবুক একাউন্ট এর খোজ তো নিতে পারি না ,আছে এই ধরুন ২০ টার উপরে তো হবেই …….
মা – বুঝলেন ফেসবুক নিশ্চয়ই কোন ব্যাঙ্কের নাম ,ও আচ্ছা আচ্ছা
ভবিষ্যত –
বাবা – মা নীলস দেখ তোর জন্য কত্ত ভালো একটা ছেলে এনেছি যা তোরা নিজেদের মাঝে কথা বার্তা বল ।
মেয়ে –কিছুক্ষন পর কথা বার্তা বলে এসে (মন খারাপ এর চেহারা করে) এই ছেলেকে আমি বিয়ে করতে পারবো না বাবা
বাবা – কেন মা ??!! তোর জন্য এতো খুজে ছেলে আনলাম
মেয়ে – কারন বাবা এই ছেলের কোন ফেসবুক ফ্যান পেইজ ই নাই .........
এ্যন্ড ইউ নো ড্যাডি আমার বর এর ফেসবুক ফ্যান ৪০০০০ এর নিচে হতে কোনভাবেই পারবে না
বাবা- তখন ই ছেলের বাবা ছেলেকে গিয়ে তিরষ্কার
এই ছেলে তোমার বায়োডাটায় ছিল তুমি খুব বিখ্যাত একটা পেইজ এর এ্যাডমিন আমার মেয়ে তাহলে কি বলে ??(ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজ নিয়ে আমি নিজেই কনফিউজড আসলে কি বানানো উচিত)
ছেলে – ওহ আঙ্কেল ,আমি আপনার মেয়েকে বলতে চেয়েছি যে আমি
“ছেলের ৯৯% ই ওকে কিন্তু কোন ফ্যান পেইজ নাই ”এই পেইজ এর এ্যাডমিন আর আপনার মেয়ে কিনা ভুল শুনলো
মেয়ে – পর্দার আড়ালে থেকে শুনে লজ্জার হাসি দিয়ে ছেলের সামনে এসে বলল আই লাভ ইউর পেইজ রেজস…………আমাকে তোমার পেইজ এর এ্যাডমিন করবে না ?? ……………
সিনেমার সমাপ্তি …………….